জীবনের কোন না কোন সময় আমরা চুল পড়া নিয়ে কোন সমস্যা ফেস করি নাই বা করবো না, এমন মানুষ আমাদের আশে পাশে নাই বল্লেই চলে। এই চুল পড়া সমস্যা যদি নিজে থেকেই না কমে আরও চুল পড়তেই থাকে তাহলেই শুরু হয় আসল সমস্যা। তখন চুল পড়ার টেনশনে রাতের ঘুমও চলে যায়। আর চুল পড়া নিয়ে দুঃশ্চিতা হবেই না কেন, কারন চুল আমাদের সৌন্দর্য্য ও ব্যাক্তিত্বের জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তাই চুল পড়ার টেনশন কমাতে গিয়ে আমরা প্যানিকড হয়ে পড়ি।
আর তখনিই ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে বাজার বা অন-লাইন থেকে হরনোম বা মেডিসিন যুক্ত প্রডাক্ট কিনে ব্যবহার করা শুরু করি। আর তখন থেকেই শুরু হয় নানা বিপত্তি। তাই এই আর্টিকেল টি শেষ পর্যন্ত পড়তে থাকুন, ইনশাআল্লাহ আপনি চুলের যত্ন নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হবেন।
হরমোন বা ক্ষতিকর কেমিকেল যুক্ত হেয়ার অয়েল ব্যবহার করলে কেমন সমস্যা হতে পারে তার দুটো কেস স্টাডি দিয়ে শুরু করছি।
ছদ্মনাম নাম সেঁজুতি। তিনি একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে কর্মরত আছেন। তিনি খেয়াল করলেন তার আগের থেকে অস্বাভাবিক বেশি চুল পড়ছে।
প্রথমত তিনি গুরুত্ব দেন নি, ভেবেছেন অতিরিক্ত কাজের চাপ বা টেনশনে হয়ত চুল পড়া একটু বেড়েছে আর কি। কিন্তু পড়ে লক্ষ্য করলেন তার চুলের ঘনত্ব কমে গেছে।
ইউটিউব দেখে অনেক কিছুই করলেন কিন্তু কোন কিছু তেই কাজ করল না। পড়ে তিনি তার এক কলিগ এর পরামর্শে কসমেটিক দোকান থেকে বিদেশি ও দামি এন্টি হেয়ার ফল ওয়েল ও শ্যাম্পু ব্যবহার করা শুরু করলেন। সমস্যার কিছু টা সমাধান হলেও কিছু দিন মাথায় শুরু হল প্রচুর চুলকানি ও জ্বালাপোড়া।
বুজতেই পারছেন হেয়ার প্রডাক্ট এ থাকা ক্যামিকেল তার সাথে সুট করে নাই। উল্টা আরও বিপদ ডেকে আনছেন।
এর পর আরও একটি ঘটনা বলি। ছদ্মনাম মৌসুমি।
তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। তিনিও হঠাৎ করেই অতিরিক্ত চুল পড়ার সমস্যায় আক্রান্ত হন। ফেজবুকের বিভিন্ন পেজ ঘেটে একটি চুল গজানোর হরমোন যুক্ত ওয়েল ব্যবহার করা শুরু করেন। তিন মাস ব্যবহার করেও কোন কাজ হয় নি।
উপরন্তু আপুর মুখে অনাকাঙ্ক্ষিত লোম গোজানো শুরু করে।
ফলাফল, তিনি এইসব ব্যবহার করা ছেড়ে দেন অনাকাঙ্ক্ষিত গোজানো লোম দুর করার জন্যে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া শুরু করেন। চুল পড়া নিয়ে এমন বিড়ম্বনা খুব কমন হয়ে গেছে।
আসলে কি এমন থাকে এই সব স্যাম্পু বা ওয়েলে ? আসুন জেনে নেই।
এই সকল প্রডাক্টে এ ডিএইচটি ব্লকার বা এন্টি ডিএইচটি মেডিসিন থাকে।
ডি এইচ টি কি?
বার্মিংহাম ডার্মাটলজির মতে চুল পড়ার অন্যতম কারন ডিএইচটি (DHT) হরমন এর বৃদ্ধি। যার পুরো মিনিং হল ডাই হাইড্রো টেসটোস্টরেন। এটি আমাদের শরীরের হরমনের একটি পরিবর্তিত রুপ। সোজা কথায় টেসটোস্টরেন হরমন থেকেই এটি উৎপন্ন হয়।
এই ডিএইচটি ই চুল পড়ার অনেক গুলি কারনের মধ্যে অন্যতম। শরীরের অতিরিক্ত টেসটেস্টোরেন বা কোন শরীর বৃত্তীয় কারনে তৈরি হওয়া ডিএইচটি আমাদের রক্তের মধ্যে মিশে যায়। ফলে এটি ব্লাড সার্কুলেশন এর মাধ্যমে একসময় আমাদের মাথার ত্বকের নিচে চুলের ফলিকলে গিয়ে জমা হয়। এটি একসময় জমতে জমতে আমাদের চুলের গোড়ায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি প্রবাহে বাধা দেয়। ফলে আমাদের চুল পড়া শুরু করে আর অনেকের ক্ষেত্রে চুল পেকে যেতেও শুরু করে।
অনলাইন এ প্রায়ই দেখবেন ডি এইচ টি ব্লকার হেয়ার অয়েল নামে বিক্রি করছে।
ডিএইচটি ব্লকার হিসাবে কোন মেডিসিন ব্যবহার করা হয় ?
সাধারনত দুটি মেডিসিন ব্যবহার করা হয়, সে গুলি হল মিনোক্সিডিল ও ফিনাস্টেরাইড।
এখন আপনি যদি এই মেডিসিন যুক্ত তেল বা শ্যাম্পু ব্যবহার করেন তাহলে আপনার সাইড ইফেক্ট করার সম্ববনাই বেশি। কারন শরীরের মধ্যে তৈরি হওয়া ডিটিএইচ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ যদি মাথার তেল বা শ্যাম্পু তে ব্যবহার করেন তাহলে সাইড ইফেক্ট হওয়াই স্বাভাবিক।
তাই এই ধরনের তেল বা শ্যাম্পু ব্যবহার করার অনুমতি কেবল ডাক্তার ই দিতে পারেন, তাও নানান পরীক্ষা নিরীক্ষার পর। কোন ফেজবুক পেজ বা এডমিন নন।
তো বাজারে পাওয়া হরমোনাইজ তেল বা মেডিসিন এর সাথে এই ডিটিএইচ এর সম্পর্ক কি?
বাজারে পাওয়া এই সব তেলে সাধারণত এই ডিটিএইচ ব্লকার হরমন বা মেডিসিন ব্যবহার করা হয়। সাথে আরও বিভিন্ন রকম কেমিকেল ব্যবহার করা হতে পারে যা সংবাদপত্র বা টেলিভিশন দেখতে পাওয়া যায়।
এই সকল তেল সাময়িক কিছু দিনের জন্য চুল পড়া বন্ধ করলেও দীর্ঘ মেয়াদে এই মেডিসিন বা হরমন যুক্ত তেল চুল এবং শরীরের অনেক পার্শপ্রতিক্রিয়া করে যা অনেকের জন্য অনেক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
ডিটিএইচ হরমনন তৈরি হয় শরীরের মধ্যে, আপনি যদি এর ঔষধ শরীরের বাইরে মাথায় প্রয়োগ করেন তাহলে কি কাজ হবে? তাহলে তো আমাদের অধিকাংশ ঔষধ ই খাবারের জন্য না হয়ে মালিশের জন্য তৈরি হত।
তাই কোন চুলের কোন তেল বা প্যাক ক্রয়ের পূর্বে এই প্রশ্ন অবশ্যই জিগ্যেস করুন এতে কোন হরমন বা মেডিসিন ব্যবহার করা হয়েছে কি না। অথবা ১০০% হারবাল প্রডাক্ট কি না।
কারন হারবাল হেয়ার ওয়েলের সাইড ইফেক্ট নাই বল্লেই চলে। তাই আর্টেকেল থেকে আমরা জানতে পারি যে, এই সকল হরমন বা ক্যামিকেল যুক্ত প্রডাক্ট ব্যবহার করলে সমস্যা সমাধানের চেয়ে আরও জটিলতা বাড়বে।
আসুন একটু শর্ট নোটে দেখে নেই এমন প্রডাক্ট ব্যবহার করলে কি কি অসুবিধে হতে পারে আপনার।
ক্ষতিকর কেমিকেল হেয়ার অয়েলে যে সকল সমস্যা হতে পারে
- মাথার ত্বকে চুলকানি ও জ্বালাপোড়া অনুভূতি হতে পারে।
- শরীরে অবাঞ্চিত লোম গোজাতে পারে।
- ছেলেদের লিবিডো কমে যেতে পারে বা ইরেক্টাইল ডিসফাংশন হতে পারে।
- মেন্টালি আপনার আত্মবিশ্বাস কমে যেতে পারে যা ক্যারিয়ার গ্রোথ কমিয়ে দিতে পারে
- সবচেয়ে ইম্পর্টেন্ট হলো আপনার সৌন্দর্য বা স্মার্টনেস কমে যেতে পারে।
তাই এইধরনের হেয়ার প্রাডক্ট কেনার পূর্বে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। সচেতন থাকব সুস্থ থাকব।
